সিসি নিউজ।। নীলফামারীতে জেঁকে বসেছে শীত। মঙ্গলবার দিনভর আকাশে সূর্যের দেখা না মেলায় এর তীব্রতা বেড়েছে কয়েকগুণ। শীতের এমন দাপটে বিপাকে পড়েছে জেলার খেটেখাওয়া নিম্নআয়ের মানুষ।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্র মতে, আজ মঙ্গলবার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ৪ দিন থেকে দেখা মেলেনি সূর্যের। আগামী কয়েকদিন শীতের এমন তীব্রতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান সূত্রটি।
এদিকে শীতের এমন তীব্রতায় মানুষের উপস্থিতি কমেছে শহর এবং গ্রামের হাট-বাজারে। ক্ষেতে খামারে উপস্থিতি কমেছে কৃষি শ্রমিকদের। শীত নিবারণে পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাব বিরাজ করছে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে। ত্রাহি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে গোবাদি পশুপাখির।
জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষিশ্রমিক রঞ্জিত রায় (৬৫) বলেন, ‘ঠান্ডাত হামেরা কাম-কাজ করির পারেছি না মাঠোত। গরম কাপড়ের অভাবোত ঘরত বসি আগুন তাপেয়া শরীর গরম করেছি’।
একই গ্রামের গৃহিনী সুন্তি বালা (৪০) বলেন, ‘চাইরদিন ধরি আকাশোত বেলা (সূর্য) দেখা যাছে না। রাইতের (রাত) এবং সাকালে (সকাল) কুয়াশাত শীত আরো বেশি লাগেছে’। ছাগোল (ছাগল) আর গোরু (গরু) গিলার গাওত চটের বস্তা আর কাপোড় দিয়া ঢাকি থুইছি।
সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের রিকশাচালক একরামুল হক (৫০) বলেন,‘ শীতোত হামার কামাই কমিছে। আগোত ৭০০ টাকা কামাই হইতো। এলা (এখন) কামাই হয় ৩০০ থাকি ৪০০ টাকা। কষ্ট করি সংসার চালেবার লাগেছে’।
জেলার সৈয়দপুর আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লোকমান হাকিম বলেন, ‘আজ মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ অবস্থা আরো কয়েকদিন চলবে। জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহে শৈত্যপ্রবাহ হবে’।
এদিকে ছিন্নমূল শীতার্ত মানুষে কষ্ট লাঘবে শীতবস্ত্র অব্যাহ রেখেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, ‘জেলার ছয় উপজেলায় দুঃস্থ শীতার্তদের মাঝে ইতিমধ্যে ১৭ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে আরো বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সেটি দিয়ে কম্বল ক্রয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়া আরো ৪০ হাজার কম্বলের চাহিদা মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে’।